যীশু সেন :
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন কেবল অর্থনৈতিক অগ্রগতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর জন্য প্রয়োজন সাংস্কৃতিক বিকাশ। সংস্কৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো সংগীত, যা মানুষের মননকে সমৃদ্ধ করে এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সংগীতের নান্দনিকতা মানুষের অনুভূতিকে গভীর করে তাকে সংবেদনশীল ও সহানুভূতিশীল করে তোলে। এর মাধ্যমে মানুষ নৈতিকতা, সৌন্দর্যবোধ এবং মানবতার প্রতি আরও বেশি অনুরাগী হয়ে ওঠে।
বক্তারা আরও বলেন, একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ গঠনে সংগীতচর্চার বিকল্প নেই। সংগীত মানুষের হৃদয়কে কোমল করে, হিংসা-বিদ্বেষ কমিয়ে ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়। তাই পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে সংগীতচর্চাকে উৎসাহিত করা অত্যন্ত জরুরি।
বক্তারা আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে উল্লেখ করেন, এ ধরনের আয়োজন শুধুমাত্র বিনোদনের জন্য নয়, বরং এটি একটি চলমান সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অংশ। এই আয়োজন নতুন শিল্পীদের জন্য সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে এবং শ্রোতাদের জন্য মানসম্মত সংগীত উপভোগের সুযোগ সৃষ্টি করে। সংগীতচর্চা মানুষকে মানবিক করে তোলে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

“সুর হোক নিত্যসঙ্গী”—এই প্রাণস্পর্শী স্লোগানকে ধারণ করে পটিয়া সঙ্গীত শিক্ষক ও শিল্পী কল্যাণ পরিষদের ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে গত
২৭ মার্চ শুক্রবার বিকাল ৪টায় পটিয়া সরকারি কলেজ অডিটোরিয়ামে কার্যকরী কমিটির শপথ গ্রহণ, দলীয় ও একক সংগীত পরিবেশনা, দলীয় ও একক নৃত্য, তবলা লহড়া, আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সংগীতানুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম। উদ্বোধক ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বংশীবাদক ক্যাপ্টেন আজিজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন চন্দনাইশ আমানত ছফা বদরুন্নেছা মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যাপক শান্তপদ বড়ুয়া, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সংগঠক তরুণ ভট্টাচার্য্য,পটিয়া থানার ইনচার্জ মো.জিয়াউল হক,শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শিক্ষক শ্যামল কান্তি দে, পটিয়ার সাবেক মেয়র আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম সওদাগর, গাজী আবু তাহের,মঈনুল আলম ছোটন, এস এম নয়ন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন পটিয়া সঙ্গীত শিক্ষক ও শিল্পী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি শিল্পী দীপক শীল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পটিয়া সঙ্গীত শিক্ষক ও শিল্পী কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিল্পী রিষু তালুকদার। যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শিক্ষক রূপক শীলের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠান উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক শিল্পী প্রকাশ চন্দ্র শীল। সংগীত পরিচালনায় ছিলেন ওয়াশিংটন দে ও জয়া বড়ুয়া।
আলোচনা সভার পর শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সংগীত পরিবেশন করেন মনজুর আহম্মদ, জয়া বড়ুয়া, পিন্টু চৌধুরী, মিটন বিশ্বাস (যন্ত্র সংগীত), আশীষ শীল, লক্ষ্মী দত্ত রায়, চিন্ময় দে, অনির্বাণ পালিত, নয়ন গুহ, রিয়া দে,অচিন্তা চৌধুরী, নিকিতা বিশ্বাংগ্রী, ইপা শীল, স্নেহা মজুমদার, দীপা দাশ,শর্মিলী দেব, চৈতী দে, দীপা দাশ (২), বাপ্পা ঘোষ, রতন কুমার দত্ত (তবলা লহরা), রুম্পী চৌধুরী।
দলীয় গান করেন অলকা মজুমদার (নৃত্য),অবন্তিকা শীল (নৃত্য)
তবলা সহযোগিতায় শ্যামল দত্ত, রাজীব নন্দী, আশীষ কুমার দে,পলাশ দে, বিষ্ণু দাশ, রূপক ভট্টাচার্য, মৃন্ময় দে।
কীবোর্ডে - ওয়াশিংটন দে, রুবেল চক্রবর্তী, অক্টোপ্যাডে- সাজু শীল,
গীটারে- প্রিয়ম কুমার উদিত।
সার্বিক সহযোগিতায় দীপক কুমার শীল প্রকাশ চন্দ্র শীল। সহযোগিতায় সুর প্রকাশ সাংস্কৃতিক একাডেমি।
। এতে দলীয় ও একক সংগীত পরিবেশনা, নৃত্য এবং তবলা লহড়ার মতো পরিবেশনায় মঞ্চ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। প্রতিটি পরিবেশনায় শিল্পীদের আন্তরিকতা ও দক্ষতা দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। বিশেষ করে তরুণ শিল্পীদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত ও আশাব্যঞ্জক।