• বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন
Headline
চট্টগ্রামকে হেলদি সিটি বানাতে রেড ক্রিসেন্টকে ভূমিকা রাখতে হবে: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন টাকার খেলায় মেতে উঠেছেন গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল মা বোনদের সমাজ রাষ্ট্রের দায়িত্ব কর্তব্য নেতৃত্ব হারাম- আমরা চ্যালেঞ্জ করছি ইসলামে এহেন বাজে কথা নাই।– আল্লামা ইমাম হায়াত কোয়েপাড়া উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত চ্যানেল এস-এর বর্ষপূর্তি উপলক্ষে চট্টগ্রামে দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনে ফরিদপুরের আওয়ামী নেতা আবদুস সোবহান পিলার ও কয়েন চক্রের মূলহোতা আমার পরিবারের সঙ্গে চট্টগ্রামের মানুষের আত্মার ও আবেগের সম্পর্ক: তারেক রহমান কুড়েঁ ঘর থেকে বিশ্বজয়ী,খই খই মারমা পাশে জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী। কুমিল্লায় শতবর্ষী গাছ কাটার অভিযোগ, জানে না বিষয়টি কেউ!

আমার পরিবারের সঙ্গে চট্টগ্রামের মানুষের আত্মার ও আবেগের সম্পর্ক: তারেক রহমান

Reporter Name / ৬২ Time View
Update : রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, চট্টগ্রাম থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, আবার এই মাটিতেই তিনি শহীদ হয়েছেন। এই চট্টগ্রামেই খালেদা জিয়াকে ‘দেশনেত্রী’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। তাই চট্টগ্রামের সঙ্গে আমার এবং আমার পরিবারের এক গভীর আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা যে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম, ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলন সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে। বাংলাদেশের মানুষ এখন এমন একটি অর্থবহ পরিবর্তন চায়, যার মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিক উন্নত শিক্ষা ও সুচিকিৎসার সুনিশ্চিত সুযোগ পাবে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘আজ এই দেশের জনগণ, এই দেশের মানুষ যদি বিএনপির পাশে থাকে- ইনশাআল্লাহ আগামী দিনেও আমরা একইভাবে কঠোর হস্তে দেশের আইনশৃঙ্খলাকে নিয়ন্ত্রণ করব; যাতে দেশের সাধারণ মানুষ খেটে খাওয়া মানুষ যাতে করে নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে। আরও বলেন, চট্টগ্রামের একটি বড় সমস্যা

জলাবদ্ধতা। বিভিন্ন খাল-নালা বন্ধ হওয়ার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে আমরা খাল কাটতে চাই। আপনারা কী আমাদের সঙ্গে খাল কাটা কর্মসূচিতে যোগ দিতে চান?। চট্টগ্রামে একাধিক ইপিজেড রয়েছে। যেখানে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

এগুলো বিএনপির আমলে হয়েছিল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আবার আমাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনেন, তাহলে আরও ইপিজেড করা হবে। সবমিলিয়ে চট্টগ্রাম হবে বাণিজ্যিক রাজধানী।
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ৫০ কোটি বৃক্ষ রোপন করবে বলে আশ্বস্ত করেন

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, যত পরিকল্পনা গ্রহণ করি, এগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে দুটি বিষয় কড়াকড়িভাবে নজর দিতে হবে। একটি হলো, মানুষের নিরাপত্তা। যাতে করে মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে। অতীতে বিএনপি যখন দেশ পরিচালনা করেছে, আমাদের কেউ অন্যায় করলেও, আমরা ছাড় দিইনি।

আগামীতে বিএনপি সরকারে গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আরেকটি বিষয়টি হচ্ছে দুর্নীতি। বিএনপি দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবে। অতীতে বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি দমন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাই আগামীতে দুর্নীতি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

তারেক রহমান বলেন, আমরা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দলের অনেক সমালোচনা করতে পারি। কিন্তু তাতে কারও পেট ভরবে না। কারও লাভ হবে না মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন বিএনপি একমাত্র দল যারা যতবার ক্ষমতায় গিয়েছে, ততবার মানুষের জন্য কাজ করেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে উৎপাদন বাড়াতে হবে বলেও উল্লেখ করেন, কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন,যাতে করে তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পায়।

তিনি আরও বলেন, আগামীতে বিএনপির ওপর আস্থা রাখুন। ধানের শীষে ভোট দিন। এবার ভোটের আগে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়বেন, তারপর কেন্দ্রে যাবেন। সেখানে ফজরের নামাজ পড়ে লাইনে দাঁড়িয়ে যাবেন। গত ১৫ বছর

আপনাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আবার এরকম একটি ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তাই এবার ধানের শীষে ভোট দেন।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল থেকেই চট্টগ্রাম নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে জড়ো হতে শুরু করেন বিএনপির চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ আবার মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসেন। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চট্টগ্রাম আগমন ও মহাসমাবেশকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়। সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকা ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে যায়।

দীর্ঘ দুই দশক পর দলের প্রধান হিসেবে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের মাটিতে পা রাখেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি-১৪৭ চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে তিনি সরাসরি নগরীর পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লতে যান এবং সেখানে রাত্রিযাপন করেন।

সূত্র জানায়, রোববার সকালে তিনি তরুণদের সঙ্গে একটি পলিসি ডায়ালগে অংশ নেন। এরপর তিনি পলোগ্রাউন্ড মাঠের মহাসমাবেশে যোগ দেন। চট্টগ্রাম সফর শেষে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

মহাসমাবেশ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম নগরীকে রাখা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তার আওতায়। প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। মঞ্চসহ পুরো এলাকাকে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ভাগ করা হয়েছে-রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোন।

উল্লেখ্য, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন। সে সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি নগরীর লালদিঘী ময়দানে এক জনসভায় বক্তব্য দেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category