নিজস্ব প্রতিবেদক
যে নানার আশ্রয়ে বড় হয়েছে, সেই নানার ঘরেই চুরি করে গ্রেপ্তারী পরোয়ানাভুক্ত আসামি ‘রিকশা চোরা রাফি’। গ্রেপ্তার এড়াতে রিকশা চোরা রাফি দীর্ঘদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়িয়ে শেষমেশ আইনের জালে ধরা পড়ে। ২০ এপ্রিল চন্দনাইশ আমলী আদালতে হাজির করা হলে শুনানী শেষে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। চন্দনাইশ কোর্টের পেশকার হারুন আসামীকে জেল হাজতে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।জানা যায়, চন্দনাইশের বৈলতলী গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এম এ মজিদের বাড়িতে চুরি হলে তার ছোট ছেলে জসীম উদ্দীন বাদী হয়ে চন্দনাইশ আমলী আদালতে সিআর মামলা নং ৫২৯/২৫ ধারা: ৩৮০/৪৪৭/১০৯/৫৪ দ:বি: দায়ের করেন।আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখা(ডিবি)কে তদন্তে দেয়। ডিবি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে মজিদ কমান্ডারের নাতি আবদুল্লাহ আল হারুন রাফি প্রকাশ ‘রিকশা চোরা রাফি’ সহ তারই ভাতিজা আবদুল মতলব, আবদুল মান্নান ও সিরাজ মিয়াকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দেয়।তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে মজিদ কমান্ডারের পরিবারের অনুপস্থিতিতে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার বাসিন্দা, নগরীর বউবাজার এলাকার রিকশাচালক আশরাফ হোসেন ধনুর ছেলে রাফির নেতৃত্বে মজিদ কমান্ডারের ভাতিজা বৈলতলী ১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবদুল বারেকের ছেলে আবদুল মতলব, আবদুল মান্নান এবং নুরন্নবীর ছেলে সিরাজ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে রান্নাঘরের বেড়া কেটে ও ভেন্টিলেটর ভেঙে ঘরে ঢুকে এলইডি টিভি, বৈদ্যুতিক পাখা, ওয়্যারিংয়ের তার, আলমারির তালা ভেঙে নগদ টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার, প্রাইজবন্ড, ক্রোকারিজ, কাপড়-চোপড়সহ মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায়।ডিবির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আসামিরা অভ্যাসগত চোর। তাদের বিরুদ্ধে চন্দনাইশ থানাসহ আদালতে একাধিক মামলা চলমান।
বাকলিয়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এর আগে ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর রাতে রাফি আপন শ্বশুর আবদুর রহিমের বাসা থেকেও স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাপয়সা ও মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে। শাশুড়ি সেলিনা রহিমের অভিযোগে বাকলিয়া থানা এসআই জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ চোরাই মালামালসহ রাফিকে নগরীর বাকলিয়া কল্পলোক আবাসিক এলাকার এফ ব্লক থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে চোরাই স্বর্ণ বিক্রির ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে মুচলেকায় মা খোরশেদা আকতার খুশির জিম্মায় ১৬ অক্টোবর রাত ২:৩০টায় ছাড়া পায়।স্থানীয়রা জানায়, ‘রিকশা চোরা রাফি’, আবদুল মতলব, আবদুল মান্নান, সিরাজ মিয়া পেশাদার চোর ও সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য। অভিযুক্ত মতলব-মান্নানের বাবা আবদুল বারেকও চোর ছিলেন। তাদের পিতা জীবদ্দশায় মজিদ কমান্ডারের ঘরের চালের টিন চুরি করে চাচা শ্বশুর কালা মিয়ার কাছে বিক্রি করে দেয়। ধরা পড়লে আবদুল বারেক স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বারের কাছে চুরির দায় স্বীকার করে ক্ষমা চায়,পরে স্থানীয় মেম্বার মৌলভী জাকিরের কাছে আবদুল বারেক এবং তার চাচা শ্বশুর কালা মিয়া টিনগুলো ফেরত দিতে বাধ্য হয়। স্থানীয়রা আরো জানায়, কিছুদিন আগে ‘রিকশা চোরা রাফি’ নগরীর শেরশাহ এলাকায় ব্যাটারী চালিত রিকশা চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হয়। তার বিরুদ্ধে গাছবাড়িয়া জান মোহাম্মদ পাড়া হতে ৩টি গরু চুরি, বৈলতলীর শফি বহদ্দার, দ্বীন মোহাম্মদ ও ইসমাইলের ঘরে চুরি এবং ইয়াবা সেবন-বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।