আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর গ্রামে মৎস্য চাষের কথা বলে পুকুর ইজারা নিয়ে চুক্তি লঙ্ঘন ও মালিকদের সম্মতি ছাড়াই ‘অবৈধ বড়শি উৎসব’ আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ‘বুড়িপুকুর’ দীঘিতে ‘অ্যাকুয়ানোভা ফিশ অ্যান্ড অ্যাগ্রো লিমিটেড’ নামের একটি ব্যানারে এই বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন সরোয়ার জামান ও ফরিদ উদ্দিন নামে দুই ইজারাদার। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এবং স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে আয়োজিত এই উৎসবের নামে সাধারণ সৌখিন মৎস্য শিকারীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চক্রটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৩০ জুলাই (২০২৬) পুকুরের প্রকৃত যৌথ মালিকদের পক্ষে ‘দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মিজানুর রহমান চৌধুরী আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর এই অবৈধ আয়োজন বন্ধের জন্য একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের অনুলিপি চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও (ওসি) প্রদান করা হয়। এর

প্রেক্ষিতে প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বড়শি উৎসব বন্ধের মৌখিক নির্দেশনা জারি করেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তজম্বুল আলী চৌধুরীর শরিকদের যৌথ মালিকানাধীন ‘বুড়িপুকুর’ দীঘিটি কেবল সাধারণ মৎস্য চাষের উদ্দেশ্যে সরোয়ার জামান ও ফরিদ উদ্দিনের কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইজারার শর্ত সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে, শরিকদের কোনো প্রকার অনুমতি বা সম্মতি ছাড়াই তারা বহিরাগতদের নিয়ে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাব্যাপী এক বিশাল বড়শি প্রতিযোগিতার ঘোষণা দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত বিজ্ঞাপনে দেখা যায়, ৩১ জুলাই থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১১টি রাউন্ডে এই উৎসব চলার কথা ছিল। প্রতিটি আসনের (সিট) টিকিট মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২০,০০০ টাকা এবং বুকিং মানি হিসেবে ৫,০০০ টাকা করে অগ্রিম নেওয়া হচ্ছিল।অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রশাসনের কোনো অনুমোদন ছাড়া বিপুল অঙ্কের টাকার এই বাণিজ্যিক আয়োজন সম্পূর্ণ বেআইনি। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা বহিরাগতদের আনাগোনার কারণে স্থানীয় বসতবাড়ির নারী, শিশু ও প্রবীণদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল এবং এলাকায় জুয়া ও অন্যান্য অসামাজিক কার্যকলাপের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির আশঙ্কা দেখা দেয়।অভিযোগকারী ও পুকুরের অংশীদার সাংবাদিক মিজানুর রহমান চৌধুরী জানান, “আমাদের না জানিয়ে এবং মৎস্য চাষের শর্ত লঙ্ঘন করে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এই বাণিজ্য ফেঁদে বসেছিল ইজারাদাররা। এতে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছিল। আমরা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন জানানোর পর তারা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছেন।”এদিকে প্রশাসনের তৎপরতা এবং স্থানীয় জনগণের তীব্র বাধার মুখে আয়োজক ও চাঁদাবাজ চক্রটি এলাকা থেকে পালিয়ে গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে অগ্রিম বুকিংয়ের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে এই অবৈধ বড়শি উৎসব বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন ও পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।