নিজস্ব প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি থানাধীন এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর সংঘটিত নৃশংস হামলার ঘটনায় দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলায় ৬০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১২০/১৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এ মামলার ১৮ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি নেজাম উদ্দিনকে বৃহস্পতিবার (আজ) অভিযান চালিয়ে আটক করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ০৪ আগস্ট ২০২৪ তারিখে সকাল আনুমানিক ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কোতোয়ালি থানাধীন আমতলত সাহেব হোটেলের সামনের সড়কে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থানরত সাধারণ ছাত্র-জনতার ওপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা দা, ছুরি, লাঠি, লোহার রড, ইট-পাটকেলসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে নির্বিচারে আঘাত হানে, এতে ঘটনাস্থলে সৃষ্টি হয় আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা।
হামলায় একাধিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে ছররা গুলির মতো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায় বলে চিকিৎসা সূত্রে জানা গেছে। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়; কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় অস্ত্রোপচারও করতে হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন, যেখানে ৬০ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১২০/১৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা, গুরুতর জখম, ভাঙচুর এবং জনমনে ভয়-ভীতি সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটককৃত নেজাম উদ্দিন দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত করে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। বর্তমানে তাকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
কোতোয়ালি থানার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”উল্লেখ্য, ঘটনাটি নগরজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগের জন্ম দেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে ইতোমধ্যে একাধিক আসামি গ্রেফতার হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।